বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান এর ইন্তেকাল

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, সুফি পন্ডিত, দার্শনিক এবং তথ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) এর গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান আজ বারডেম হাসপাতালের ইব্রাহিম কার্ডিওলজি সেন্টারে ইন্তেকাল করেন। প্রয়াত অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনকে প্রাথমিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের মহাসচিব ছিলেন। অধ্যাপক ফরিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭০ সালে আবুজর গিফারি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি.এস.এস (সম্মান) এবং এম.এস ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যাপক ফরিদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ‘দি পিপল’ পত্রিকার উপ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি ইরানে চলে যান। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর তিনি ‘দি তেহরান ইকনমিস্ট’সহ বেশকয়েকটি ইরানী পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। অধ্যাপক ফরিদ রেডিও তেহরানের বাংলা প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন। অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ৩৬ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে সাম্প্রতিককালে ‘ইসালমী বিশ্ব দর্শনের রূপরেখা’, ‘চোখের জলে প্রেমের হজ্জ’ এবং ‘আল্লাহ তত্বের শেকর সন্ধানে’ প্রকাশিত হয়েছে।

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বেশ কয়েকটি গবেষণা ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জর্ডানের রয়েল একাডেমি, বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম, আল্লামা রুমি সোসাইটি ঢাকা, বাংলাদেশ দর্শনশাস্ত্র সমিতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি শিক্ষক সমিটি (বিইটিএ) এবং আবুজর গিফারি সোসাইটি ইত্যাদি। তিনি ইরান থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর শিক্ষার সাথে জড়িত হন। অধ্যাপক ফরিদ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনা করেন। ইন্তেকালের পূর্বসময় পর্যন্ত তিনি ইউআইটিএস এ অতিরিক্ত শিক্ষক এবং ইউআইটিএস রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অধ্যাপক ফরিদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘সুফি সাধকের বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রোগ্রামের মডারেটর ছিলেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি, ফারসি, আরবি, উর্দু ও হিন্দি প্রভৃতি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিষয় ও বৈদেশিক সংস্কৃতিতে আগ্রহী ছিলেন এবং বিশ্বের বহুদেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিরিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেন। ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে সুপরিচিত অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান এর ইসলামী চিন্তাধারার বৈশিষ্ট্য ছিলো সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিকতা। মৃত্যুর সময় তিনি একমাত্র কন্যা, স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Download from BIGTheme.net free full premium templates